আমেরিকা কি গৃহযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে? । Is America heading towards civil war?

আমেরিকা কি গৃহযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে?
Is America heading towards civil war?


Is America heading towards civil war?
আমেরিকা কি গৃহযুদ্ধের দিকে
এগিয়ে যাচ্ছে?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সর্মথকরা সেদেশের দেড় শতাধিক বছর আগের গৃহযুদ্ধের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে আবারো গৃহযুদ্ধ বাঁধাতে চাইছে ? এই প্রশ্ন এখন সারা বিশ্বজুড়ে । গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসাবে ডেমোক্রেট পার্টির নির্বাচিত জো বাইডেনের প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নেওয়ার আগের কয়েকদিন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সশস্ত্র বিক্ষোভ কর্মসূচির কারণে । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি এর ক্যাপিটাল হিল ছাড়াও সেদেশের ৫০ টি অঙ্গরাজ্য গুলোতে সশস্ত্র বিক্ষোভের কর্মসূচি পরিপেক্ষিতে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই গত ১১ জানুয়ারি এক সতর্কবার্তা জারি করে ।

গত 6 জানুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে হাজার হাজার মানুষের ক্যাপিটাল হিলে সন্ত্রাসী হামলার থেকেও ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে শনিবার থেকে ২০ জানুয়ারি বুধবার পর্যন্ত একটানা এ কর্মসূচিতে । এই ঘটনা নিয়ে পেন্টাগন সহ অঙ্গ রাজ্য প্রশাসনের পাশাপাশি ওয়াশিংটন ডিসি এবং ক্যাপিটাল হিল প্রশাসনেও নানা বিধ প্রস্তুতি চলছে । জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা ।

ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি এর ক্যাপিটল হিলে শপথ গ্রহণের কার্যক্রমকে নিরাপদ রাখতে ১৫,০০০ ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে । হামলা অথবা অন্য কোনো হুমকি অগ্রাহ্য করেই নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস যথারীতি ক্যাপিটাল হিল এর সামনের মঞ্চ থেকেই প্রকাশ্যে শপথ গ্রহণ এর সংকল্প ব্যক্ত করেছেন । উল্লেখ থাকে যে, এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে পূর্বের সময়ে ২ লাখ আমেরিকানকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও এবার বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস এর কারণে মাত্র এক হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে । অর্থাৎ সমস্ত অনুষ্ঠান চলবে ভার্চুয়াল মাধ্যমে । এমনকি সুসজ্জিত মহড়ার ব্যাপারটিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা দেখতে পারবেন টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে ।

বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরা যুদ্ধাংদেহী কর্মসূচি চালালে সবকিছু পাল্টে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ১৬ থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত এমন বিক্ষোভ অথবা সন্ত্রাসী তাণ্ডব এর মোকাবেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও নগর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে । এসব কারণেই সমস্ত আমেরিকা জুড়ে এক ধরনের উত্তেজনা বিরাজ করছে । যাকে গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে । ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের ঘোষিত কর্মসূচিতে সশস্ত্র অভিযান এবং আক্রমণের প্রসঙ্গটিও রয়েছে । উল্লেখ থাকে যে, ১৮৬০-৬১ সালে আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় সাউথ ক্যারোলাইনা, মিসিসিপি, ফ্লোরিডা, আলবামা, জর্জিয়া, লুইজিয়ানা, টেক্সাস, ভার্জিনিয়া, আলকানসান, টেনেসি এবং নর্থ ক্যারোলাইনা অর্থাৎ এই ১১ অঙ্গরাজ্যে দাস প্রথা বিরোধী বিক্ষোভ থেকে গৃহযুদ্ধ পর্যন্ত পৌঁছে । সেটি ছিল পুরনো বর্বরতার প্রতিবাদ । কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপট ভিন্ন ।

বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যদি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সরিয়ে দেওয়া হয় কিংবা তিনি যদি নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে না যান তাহলে ২০ জানুয়ারি সব অঙ্গরাজ্য, স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় আদালত ভবন গুলোতে ঝড়ের বেগে ঢুকে সেগুলো দখল করে নিতে একটি গ্রুপ ডাক দিয়েছে বলে জানিয়ে এফবিআইয়ের এক অন্তরীণ খবরে সতর্ক করা হয়েছে । ২০২০ সালে ৩ নভেম্বর এর নির্বাচনে পরাজয়কে মেনে নিতে পারছেন না পরাজিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । ৩ নভেম্বর এর নির্বাচনে ভোট ডাকাতির অভিযোগ মেতে উঠেছে সয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টরপন্থী সমর্থকরা ।

৬ জানুয়ারি সন্ত্রাসী হামলায় উস্কে দেওয়া এবং ক্যাপিটল হিলে ইতিহাসে জঘন্যতম একটি অধ্যায়ের সংযোজন ঘটানোর জন্য কংগ্রেসের নিম্ন কক্ষে গত সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইমপিচমেন্ট করার বিল উত্থাপিত হয়েছে । যার উপর ভোট হবে ১৩ জানুয়ারি । এই বিল পাসের পরই তা পাঠানো হবে আমেরিকার সিনেটে । ১৯ জানুয়ারি অর্থাৎ জো বাইডেনের শপথ গ্রহণের আগের দিন থেকে শপথগ্রহণ পর্যন্ত কিংবা তারপরেও ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অপসারণের এই বিল পাস এর কার্যক্রম অব্যাহত থাকতে পারে । সে সময় অবশ্য ডোনাল্ড ট্রাম্প আমলের ইতি ঘটবে । ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার যাতে প্রার্থী হতে না পারেন এবং অবসরকালীন নিরাপত্তা-সহায়তা সহ কোনরকম ভাতা না পান সে ব্যবস্থাও হতে পারে এই বিল আইনে পরিণত হলে । কারণ উভয় দলের অর্থাৎ রিপাবলিকান এবং ডেমোক্রেট পার্টির অধিকাংশ সদস্যই মনে করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প হচ্ছেন “সন্ত্রাসী” এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ ।

একটা মজার ব্যাপার হচ্ছে, বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সোমবার নিজেই এক ঘোষণায় ২০ জানুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসিতে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন । শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট এবং ইমারজেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সিকে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিতে বলেছেন । অথচ ৬ জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্যাপিটাল হিলে আক্রমণের সময় এমন একটি পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী ছিলেন না অথবা ইচ্ছা করেই গণতন্ত্রের সূতিকাগারকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন, যার মাশুল এখন তাকে কড়ায়-গণ্ডায় দিতে হচ্ছে । ক্যাপিটাল হিলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মদদে এবং তার উস্কানিতে সন্ত্রাসী হামলার বিষয়টি সব গণমাধ্যম এর শিরোনাম হয়েছে । আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার সন্ত্রাসী বাহিনী ।

রিপাবলিকান পার্টির অধিকাংশই এখন ডেমোক্রেটদের পাশে । ভোটারদের মন রক্ষায় অথবা জনসমর্থন ধরে রাখতেই তাদেরকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সম্পৃক্ততা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে । অনেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি ত্যাগের ঘোষণাও দিয়েছেন । বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস এর কারণে বিপর্যস্ত আমেরিকায় “ট্রাম্প তান্ডব” এ এক ধরনের হতাশা সৃষ্টি হয়েছে সে দেশের জনজীবনে । প্রশাসনের মধ্যে ট্রাম্পের সমর্থকরাও হাত গুটিয়ে নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে । কারণ ইতিমধ্যে তারা চিহ্নিত হয়েছেন এবং জো বাইডেন প্রশাসন এলেই তারা চাকরি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন । এমন অবস্থা নতুন নয় । দলীয় বিবেচনায় অনেক মানুষের চাকরি ফেডারেল প্রশাসনের বিভিন্ন সেক্টরে । নতুন সরকার এলে তাদের প্রায় সবাইকে বিদায় নিতে হয় । জো বাইডেনের ডেমোক্রেটরাও সে প্রস্তুতিতে রয়েছেন । এমন পরিস্থিতির কারণে করোনার ভ্যাকসিন প্রদানের কার্যক্রম স্থবিরতায় আক্রান্ত কিনা সেটাও বিবেচনায় রাখছে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা । বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরা কোন ভাবেই থাকতে পারবেন না এটা প্রায় নিশ্চিত ভাবেই বলা যায় ।।

আরও পড়ুন : ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অপসারণের তৎপরতা । Efforts to remove Donald Trump

Post a Comment

Please do not enter any spam link in the comment box.

Previous Post Next Post