জো বাইডেন শপথ নিয়ে প্রথমেই যে কাজগুলো করবেন । The first thing Joe Biden will do with the oath

জো বাইডেন শপথ নিয়ে প্রথমেই যে কাজগুলো করবেন
The first thing Joe Biden will do with the oath

The first thing Joe Biden will do with the oath
জো বাইডেন শপথ নিয়ে প্রথমেই
যে কাজগুলো করবেন

জো বাইডেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন আগামী ২০ জানুয়ারি । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসাবে জো বাইডেন শপথ গ্রহণের পরপরই বাতিল করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারিকৃত অ-আমেরিকান বিধি নিষেধ সহ বেশ কয়েকটি আইন । জো বাইডেন নির্বাহী আদেশ দেবেন প্রায় ডজনখানেক । জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রথম কার্যদিবসেই নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করবেন । অভিবাসন থেকে শুরু করে জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়ে গত চার বছরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অবস্থান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর সব রকম আয়োজন থাকছে এসব নির্বাহী আদেশে ।

আসন্ন জো বাইডেন প্রশাসনের চিফ অফ স্টাফ রন ক্লেইনের স্মারক থেকে জানা গেছে, নির্বাচনী প্রচারের সময়ে জো বাইডেন যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আমেরিকার জনগণদের, তা রক্ষা করার প্রথম প্রমাণ শপথ নেওয়ার দিন থেকেই জানান দেওয়ার চেষ্টা করা হবে । মুসলিম প্রধান বিভিন্ন দেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশটি প্রথম দিনই বাতিল করবেন জো বাইডেন । জলবায়ু সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে এনেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প । জো বাইডেন তার প্রথম কার্যদিবসেই এই চুক্তিতে ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দেবেন ।

জো বাইডেন প্রশাসনের প্রথম কার্যদিবসের নির্বাহীরা আদেশগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে -করোনাভাইরাস পরিস্থিতি চলাকালীন শিক্ষা ঋণ পরিশোধ স্থগিত রাখার নির্দেশ । অর্থনৈতিক কারণে বাড়ি ভাড়া দিতে না পারার কারণে ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ স্থগিত রাখার আদেশ । জো বাইডেন আগেই জানিয়েছেন, তিনি তার ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম দিনই নির্বাহী আদেশে ফেডারেল স্থাপনায় মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করবেন । প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ছাড়াও মার্কিন সরকারের বিভিন্ন বিভাগের প্রতি জো বাইডেনের নির্দেশমূলক আদেশ জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন রন ক্লেইন । জো বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণের ১০০ দিনের মধ্যে ব্যাপক ভাবে অভিবাসন সংস্কার আইন নিয়ে কাজ করার জন্য আইন প্রণেতাদের কাছে প্রস্তাব তুলে ধরবেন । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেঙে পড়া অভিবাসন ব্যবস্থাকে ডোনাল্ড ট্রাম্প একের পর এক নির্বাহী আদেশ জারি করে আরো জটিল করে তুলেছেন । জো বাইডেন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি লাখ লাখ নথিপত্রহীন অভিবাসীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের পথ উন্মুক্ত করবেন ।

জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ গ্রহণ করার প্রথম সপ্তাহে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় করোনা ভাইরাসের কারণে ভেঙেপড়া অর্থনীতিকে পূর্ণ উদ্ধারে তিনি ১.৯ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব নিয়ে কংগ্রেসকে প্রক্রিয়া করার উদ্যোগ নেবেন । জো বাইডেন তার বক্তৃতায় স্পষ্ট করে বলেছেন, তার প্রথম আইন প্রণয়নের উদ্যোগের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভাবে বিপর্যস্ত নাগরিকদের সহযোগিতায় আইন পাস করা হবে । রন ক্লেইন আরও জানিয়েছেন, সব সমস্যা কেবল নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয় । আইন প্রণেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে এসব পদক্ষেপ দ্রুততার সঙ্গে গ্রহণ করা হবে । মার্কিন সিনেটে রিপাবলিকানদের সঙ্গে জো বাইডেনের সুসম্পর্ক এসব ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে ।

শুরুতেই মার্কিন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সংবিধানিক পদগুলো সিনেটের শুনানির মাধ্যমে নিশ্চিত করাই হবে জো বাইডেন-কমলা হ্যারিস প্রশাসনের অন্যতম জরুরী কাজ । রন ক্লেইনের স্মারক থেকে আরও জানা গেছে, ২৫ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জো বাইডেন যেসব আদেশ জারি করবেন, তার মধ্যে রয়েছে সরকারের সব পর্যায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য ক্রয় করা । এই সময়ের মধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফৌজদারি অপরাধের বিচার ব্যবস্থাকে (ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেম) সংস্কার করার নির্দেশনা দেবেন জো বাইডেন । ক্ষমতা গ্রহণের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে নথিপত্রহীন অভিবাসীদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করা অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশুদের পুনরায় একত্রীকরণ করতে ফেডারেল এজেন্সিকে নির্দেশ দেবেন জো বাইডেন । স্বাস্থ্যসেবা বর্ধিত করবেন । অধিক সংখ্যক লোক যাতে করে স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার পায়, সে জন্য নির্দেশনা জারি করবেন জো বাইডেন । রন ক্লেইন আরো বলেছেন, এসবই জো বাইডেন- কমলা হ্যারিস প্রশাসনের কাজের শুরু মাত্র । বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস মোকাবেলা, অর্থনৈতিক চাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনা, যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বর্ণবাদ ও অসাম্য মোকাবেলায় আরো অনেক জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হবে । চরমপন্থীদের হুমকি মোকাবেলা, জলবায়ু সমস্যাসহ অগ্রাধিকারের বিষয়বস্তুগুলো মাথায় রেখে কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রন ক্লেইন । তিনি বলেছেন, জো বাইডেনের নেতৃত্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে আবার সঠিক পথে ফিরে এসেছে, তার প্রমান ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠবে ।।


আরও পড়ুন : শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মহড়া স্থগিত । The swearing-in ceremony was postponed

Post a Comment

Please do not enter any spam link in the comment box.

Previous Post Next Post