গণতন্ত্রের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প বিপদজনক । Donald Trump is dangerous for democracy

গণতন্ত্রের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প বিপদজনক
Donald Trump is dangerous for democracy

Donald Trump is dangerous for democracy
গণতন্ত্রের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প বিপদজনক
বিদায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের ফলাফলের কোন কেয়ারই করছেন না । ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করে আসছেন নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে অতএব তিনিই প্রেসিডেন্ট হিসেবে আছেন এবং থাকবেন । তবে ২০ জানুয়ারি নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন । গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সেই অনুমতি দিয়েছে । তার আগেই বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরা যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছে এবং তান্ডব চালিয়েছে সিনেট ভবনে । আর এই সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সমর্থন যুগিয়েছেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই । এ অবস্থার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ডোনাল্ড ট্রাম্প এর মেয়াদ শেষের আগেই তাকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ।

গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ক্যাপিটালে হামলার পরই এ নিয়ে আলোচনায় বসেন খোদ ট্রাম্পের মন্ত্রিসভা । গত বুধবার মার্কিন পার্লামেন্ট ভবন ক্যাপিটালে ঢুকে তান্ডব চালানোর সময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে বাধ্য হয়ে গুলি চালাতে হয় । এ ঘটনায় অন্তত চার জনের মৃত্যু হয়েছে । আর এই ঘটনার পরপরই ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার সদস্যরা আলোচনায় বসেন । আলোচনা সভায় ছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সও । সূত্রের খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংসদের ২৫ তম সংশোধনী নিয়ে আলোচনা হয়েছে । এ সংশোধনী অনুযায়ী কোন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে মেয়াদ শেষের আগেই তাকে সরিয়ে দেওয়া যায় । তবে তার জন্য ভাইস প্রেসিডেন্ট এর নেতৃত্বে ভোটাভুটি করতে হয় ।

নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দল ডেমোক্রেটিক পার্টির তরফ থেকেও একই দাবি তুলে বলা হয়েছে, ২৫ তম সংশোধনী প্রয়োগ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হোক । প্রতিনিধি পরিষদের আইন বিষয়ক কমিটি ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে চিঠি পাঠিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরাতে পদক্ষেপ নিতে বলেছেন ডেমোক্রেট সিনেটররা । চিঠিতে তারা লিখেছেন, হামলা চালিয়ে গণতন্ত্রের অবমাননা করেছেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ।

সরকারি প্রতিক্রিয়ার বাইরেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি হচ্ছে । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের মন্তব্য, তাদের জীবদ্দশায় তারা এ ধরনের কোন ঘটনা তারা এর আগে দেখেননি । তবে তারা শুনেছেন ২০০ বছর আগে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে । গতকাল বৃহস্পতিবার ঘটনার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বড় একটি অংশও ট্রাম্পের ওপর বেজায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন । ক্ষুব্ধ হয়েছেন জনপ্রতিনিধিরাও । হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ এর সদস্য ক্যাথলিন রাইস টুইটারে টুইট করে লিখেছেন, ক্যাপিটাল এর উপর দেশীয় সন্ত্রাসবাদি হামলার কথা বলেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । গণতন্ত্রের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প বিপদজনক । অবিলম্বে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরানো দরকার । মন্ত্রিসভার উচিত ২৫ নম্বর সংশোধনী কার্যকর করা ।

সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্সিয়াল কাজের থেকে বেশি সময় দেন সোশ্যাল মিডিয়ায় । ক্ষমতা ছাড়ার আগে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া থেকেই বড় ধাক্কা খেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । ক্যাপিটাল ভবনে ডোনাল্ড ট্রাম্প এর সমর্থকদের নজিরবিহীন হামলার পর সেই আগুন উস্কে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে । আর তার জের ধরেই ফেসবুক ও টুইটার বন্ধ করে দিয়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের একাউন্ট । এবার সেই একই রাস্তায় হাটলো ইনস্টাগ্রামও । ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইনস্টাগ্রাম একাউন্ট ।

অন্যদিকে ১২ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে তার টুইটার অ্যাকাউন্ট । এ জন্য টুইটার তার বক্তব্যে বলেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি তার উস্কানিমূলক বার্তা ডিলিট না করেন তাহলে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে তার টুইটার অ্যাকাউন্ট । ফেসবুকের ভাইস প্রেসিডেন্ট গুই রোজেন জানিয়েছেন, জরুরি অবস্থার পরিপেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে । এর ফলে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার আশা করছেন তারা ।

আরও পড়ুন : জো বাইডেনের বিজয় আটকানোর চেষ্টা । Trying to prevent Joe Biden's victory

Post a Comment

Please do not enter any spam link in the comment box.

Previous Post Next Post