মহানবী (সাঃ) সত্যের সন্ধানী ছিলেন : মহাত্মা গান্ধী ।। The Prophet (saw) was a seeker of truth: Mahatma Gandhi

মহানবী (সাঃ) সত্যের সন্ধানী ছিলেন : মহাত্মা গান্ধী
The Prophet (saw) was a seeker of truth: Mahatma Gandhi


The Prophet (saw) was a seeker of truth: Mahatma Gandhi
মহানবী (সাঃ) সত্যের সন্ধানী ছিলেন :
মহাত্মা গান্ধী
প্রায় ২০০ বছরের ইংরেজ শাসন, শোষণ এবং সীমাহীন অত্যাচার থেকে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের স্বাধীনতা এনে দিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া এক ক্ষণজন্মা চরিত্র মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ওরফে মহাত্মা গান্ধী । তার দেখানো সত্যগ্রহ, ব্রিটিশ পণ্য বর্জন, শত কষ্ট ও অভাব সহ্য করে স্বাবলম্বী হওয়া এবং দেশ ও জনস্বার্থে নিজের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ত্যাগের যে দৃষ্টান্ত তিনি দেখিয়েছেন তা কেবল অতি মানবীয় গুণ এর মানুষের পক্ষে সম্ভব । অন্যদিকে দেশ স্বাধীন ও ব্রিটিশ খেদাও আন্দোলনের জন্য তিনি বেছে নেন অহিংস আন্দোলন । মহাত্মা গান্ধী আঘাত সহ্য করে অত্যাচারীকে পাল্টা আঘাতের পরিবর্তে শান্তির পথে ডেকেছেন । আর আঘাত করে অত্যাচারীরা যে বেশি দিন টিকে থাকতে পারে না, তাও শিখিয়ে গেছেন ভারতবাসীকে । এখানেই তার মহাত্মা নামের সার্থকতা ।

“দি টাইমস অফ ইন্ডিয়া” পত্রিকা ২০১৬ সালের ১২ ডিসেম্বর “দি প্রফেট  ওয়াজ এ সিকার অফ ট্রুথ : (মহানবী (সাঃ)ছিলেন একজন সত্যের সন্ধানী : মহাত্মা গান্ধী) শিরোনামের একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করে । প্রবন্ধ মতে, ১৯৩৪ সালের ২৩ জুন তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহাত্মা গান্ধী আহমেদাবাদে আঞ্জুমান-ই-ফিদাই ইসলাম নামক একটি সংগঠন কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে মহানবী (সাঃ) এর উপর বক্তৃতা করেন । তার এই বক্তৃতা পরবর্তীতে আহমেদাবাদ থেকে প্রকাশিত “হরিজন বন্ধু” নামক পত্রিকার জুলাই ১৯৩৫ সালের সংখ্যায় প্রকাশিত হয় । পত্রিকার প্রতিবেদন মতে, মহাত্মা গান্ধী মহানবী (সাঃ) সম্পর্কে নিম্নোক্ত মন্তব্য করেন...............

“আমি সর্বপ্রথম দক্ষিণ আফ্রিকা যাই একজন মুসলমানের মালিকানাধীন আইন প্রতিষ্ঠান বা ল’ ফার্মের চাকরির সুবাদে । সেখানে আমার কয়েকজন মুসলমান বন্ধুর সঙ্গে মেশার সৌভাগ্য হয়, যা বছরের পর বছর বজায় ছিল । এই সম্পর্কের সূত্র ধরে আমি উপলব্ধি করি যে, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবন সম্পর্কে আমার জানা উচিত । আমি দক্ষিণ আফ্রিকাতেই তার সম্পর্কে জানা শুরু করি । কিন্তু তা পর্যাপ্ত ছিলনা কিন্তু ভারতে ফিরে আমি কারারুদ্ধ হই । এই কারাগার আমার জীবনে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনী পাঠ করার সৌভাগ্য নিয়ে আসে । আমাদের পাঠলব্ধ জ্ঞান থেকে আমি অনুধাবন করি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ছিলেন একজন সত্যের সন্ধানী বা সিকার অফ ট্রুথ । তিনি ছিলেন খোদাভীরু । আমি জানি, তোমাদের নতুন কিছু বলছি না । আমি শুধু তোমাদের বোঝাতে চাই কিভাবে তার জীবনী আমাকে মুগ্ধ ও বিমোহিত করেছে” ।

ঢাকা থেকে প্রকাশিত দি ডেইলি স্টার পত্রিকার মাসিক প্রকাশনা “দি ফোরাম” এর আগস্ট 2010 সংখ্যায় “গান্ধী এন্ড ইসলাম” শীর্ষক একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয় । সৈয়দ আশরাফ আলীর লেখা এই প্রবন্ধ মতে, মহাত্মা গান্ধী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সম্পর্কে জানতে এত আগ্রহী ছিলেন যে, যখন তিনি (মহাত্মা গান্ধী) মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সম্পর্কিত পড়ার মতো কিছু পেতেন না, তখন খুবই দুঃখ অনুভব করতেন । মহাত্মা গান্ধীর মতে, আমি শ্রেষ্ঠতম সেই মানুষের জীবন সম্পর্কেও আরো জানতে চাই, যিনি আজ কোটি মানুষের হৃদয়ে প্রভাব বিস্তার করে আছেন । আমি নিশ্চিত যে, এর নেপথ্যে তরবারি বা গায়ের জোরে নয়, বরং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর সারল্য, আত্মত্যাগ, দৃড়সংকল্প, ভক্ত ও অনুসারীদের প্রতি মমত্ববোধ, সৎ সাহস সর্বোপরি নিজের উদ্দেশ্যে ও সৃষ্টিকর্তার উপর অগাধ আস্থা তাকে এই সাফল্য এনে দিয়েছিল । আমি যখন মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর ওপর দ্বিতীয় বইটি পড়া শেষ করি, তখন আমার মন ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে এই ভেবে যে, হায়! এই মহান মানুষটিকে আরো জানার জন্য কিছু (বই) আর নেই ।

মহাত্মা গান্ধী মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সম্পর্কে আরো বলেন, তিনি দরিদ্রদের মাঝে দিন অতিবাহিত করেছেন অথচ তার সামনে ছিল অগাধ ধন সম্পদ লাভের সুযোগ । আমি যখন তার নিজের, পরিবার এবং অনুসারীদের অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশা ও দারিদ্র্যের কথা অবগত হয়েছি, তখন আমার চোখ ভিজে যায় । তিনি স্রষ্টার প্রতি একনিষ্ঠ ও অনুগত ছিলেন, সর্বদা স্রষ্টাকে ভয় করতেন এবং তার মনে ছিল মানবজাতির জন্য প্রবল মায়া মমতা । আল্লামা স্যার আব্দুল্লাহ আল মাসুম আল সোহরাওয়ার্দী সংকলিত হাদীস গ্রন্থ পড়ে মহাত্মা গান্ধী এতটাই মুগ্ধ হন যে, এই হাদীস তথা হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর বাণীকে তিনি কেবল মুসলমান নয়, সমগ্র মানব জাতির জন্য অমূল্য সম্পদ বলে উল্লেখ করেন ।

আরও পড়ুন : অন্যতম ও বিশ্বের পয়গম্বর : জর্জ বার্নার্ড শ ।। One of the world's prophets: George Bernard Shaw

Post a Comment

Please do not enter any spam link in the comment box.

Previous Post Next Post