অন্যতম ও বিশ্বের পয়গম্বর : জর্জ বার্নার্ড শ ।। One of the world's prophets: George Bernard Shaw

অন্যতম ও বিশ্বের পয়গম্বর : জর্জ বার্নার্ড শ
One of the world's prophets: George Bernard Shaw


One of the world's prophets: George Bernard Shaw
অন্যতম ও বিশ্বের পয়গম্বর :
জর্জ বার্নার্ড শ
ইংরেজি সাহিত্যের প্রবাদ পুরুষ জর্জ বার্নার্ড শ । আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে ১৮৫৬ সালে জন্ম নেওয়া জর্জ বার্নার্ড শ মাত্র ২০ বছর বয়সে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান এবং একজন লেখক, সাহিত্যিক, প্রবন্ধকার, সমালোচক, সর্বোপরি নাট্যকার হিসেবে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন । বিংশ শতকের প্রথম অংশে তার লেখা প্রবন্ধ, সমালোচনা ও বিদ্রূপাত্মক নাটক সমগ্র ব্রিটিশ রাজ্যে কাঁপন ধরিয়ে ছিল । ইংরেজি সাহিত্যে অনন্য অবদানের জন্য ১৯২৫ সালে জর্জ বার্নার্ড শ নোবেল সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হন । অন্যদিকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তিনি ছিলেন বেশ সক্রিয় । একজন নির্ভীক ও স্পষ্টবাদী বক্তা, লেখক ও সমালোচক হিসেবে তার সাফল্য ছিল ঈর্ষণীয় ।

জর্জ বার্নার্ড শ তার স্ত্রীকে নিয়ে কানাডার পর্যটন জাহাজ “অ্যামপ্রেস অব ব্রিটেন” যোগে ১৯৩২ সালের শেষ অংশে ভ্রমণের জন্য বের হন । ১৯৩৩ সালের জানুয়ারি মাসে এই জাহাজ তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বোম্বে উপকূলে পৌঁছে । বোম্বে শহরে ছিল তার মূল বিচরণ কেন্দ্র । তাই ভালোভাবে ভারতকে দেখতে না পারার আক্ষেপও ছিল তার মনে । ভারতে স্বল্পমেয়াদের ভ্রমণ শেষে তার জাহাজ কলম্বোর উদ্দেশে যাত্রা করে ।

দি লাহোর আহমদিয়া ইসলামিক মুভমেন্টের ইন্টারনেটভিত্তিক প্রকাশনায় প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ও ইসলামভিত্তিক বিশ্বখ্যাত বহু বইয়ের রচয়িতা ড.জাহিদ আজিজ এর লেখা “জর্জ বার্নার্ড শস ভিউস ইসলাম” শীর্ষক একটি গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ প্রকাশিত হয় । এই প্রবন্ধের আলোকে জানা যায়, ১৯৩৪ সালের ২৪ জানুয়ারি তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের (অবিভক্ত) লাহোর (বর্তমানে পাকিস্তান) থেকে প্রকাশিত “দি লাইট” ম্যাগাজিনে ভারতে ভ্রমণরত জর্জ বার্নাড শ এর একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয় । দুর্লভ সাক্ষাতকার গ্রহণ করেন “দি লাইট” ম্যাগাজিনের বোম্বের প্রতিনিধি মনির হেইন্দাদে । এই সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে ইসলাম এবং হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সম্পর্কে জর্জ বার্নার্ড শ এর ধারণা যেভাবে ফুটে ওঠে, তা নিম্নে তুলে ধরা হলো……

“হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) প্রবর্তিত ধর্মের গভীরতা, শক্তিমত্তা ও বহুমাত্রিকতার জন্য আমি করি । আমার কাছে মনে হয় এটাই একমাত্র ধর্ম যুগে যুগে প্রাসঙ্গিকভাবেই টিকে থাকবে এবং পৃথিবীর মানুষ নির্দ্বিধায় তা গ্রহণ করবে বলে আমি মনে করি । আমি ভবিষ্যৎবাণী করছি ইউরোপের মানুষ যেভাবে বর্তমানে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর আদর্শ ও বিশ্বাসকে গ্রহণ করতে শুরু করেছে, ভবিষ্যতেও তা চালু থাকবে । ইউরোপের কিছু ধর্ম গ্রহণ অজ্ঞতা ও ধর্মান্ধতার কারণে অতিরঞ্জিত । এতে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-কে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে । এসব গ্রহন্ত তাকে এবং তাঁর প্রবর্তিত ধর্ম কে ঘৃণা করতে শিখিয়েছে । তাদের কাছে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ছিলেন খ্রিস্টান ধর্ম বিরোধী । আমি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)- এর জীবনী পড়েছি । তিনি একজন মহান ব্যক্তি । তাকে খ্রিস্টান বিরোধী নয় বরং মানবতার রক্ষাকর্তা বলা উচিত । আমি মনে করি তার মত একজন মানুষ যদি আধুনিক বিশ্বের অধিকর্তা একক শাসক হতেন, তবে তিনি বিশ্বের বিরাজমান সমস্যার সমাধান এমনভাবে করতেন যে, তা বিশ্বে বহুকাঙ্খিত সুখ শান্তি বয়ে আনত । বিংশ শতকে কার্লাইল, গোয়েথ কিংবা গিবনের মত সৎ ও সত্য বাদী দার্শনিক বা চিন্তাবিদরা হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) প্রবর্তিত ধর্ম ও আদর্শের অন্তর্নিহিত শক্তি ও মাধুর্য গ্রহণ করেছেন, ইসলামের প্রতি ইউরোপীয় জনগণের ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করছে । কিন্তু বর্তমান ইউরোপ অনেক এগিয়ে গেছে । হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)- এর ধর্ম সবাইকে মুগ্ধ করতে শুরু করেছে । পরের শতকে যাবতীয় সংকট সমাধানে এই ধর্মের ভূমিকা বা গুরুত্ব বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে । এক্ষেত্রে সবাইকে আমার ভবিষ্যৎবাণী বুঝতে হবে । এমনকি বর্তমানকালেও আমার চেনাজানা অনেকেই এবং বহু ইউরোপবাসী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর প্রতি আস্থা স্থাপন করেছেন । ইউরোপের বুকে ইসলামের প্রসার বৃদ্ধি শুরু হয়ে গেছে ।”

জর্জ বার্নার্ড শ এর এই সাক্ষাৎকার বা বক্তব্য এর বিভিন্ন অংশ পরবর্তীতে বহু লেখায় উদ্ধৃত করা হয় । এই বিষয়ে ১৯৪৮ সালের ৬ ডিসেম্বর “দি ইসলামিক রিভিউ” ম্যাগাজিনের পক্ষ থেকে জর্জ বার্নার্ড শ এর মন্তব্য জানতে চাওয়া হয় । পরের দিনই জর্জ বার্নার্ড শ এই চিঠির উত্তর দেন । চিঠিতে একদিকে কোনো কোনো ভুল উদ্ধৃতিকে তিনি অস্বীকার করেন । অন্যদিকে আবারও হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর প্রশংসা করে লেখেন, আমি সব সময় হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-কে একজন অন্যতম ও বিশ্বের পয়গম্বর হিসেবে গণ্য করি । যিশু খ্রিস্টের কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যর্থতার বিপরীতে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেন । আবার আমি এটাও বলেছি যে, খ্রিস্ট ধর্ম বিকৃত বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার হাত থেকে সংস্কারের মাধ্যমে রক্ষা পায় । একইভাবে এই পৃথিবীর জয় করার উপায় হতে পারে সত্যিকারের ইসলাম

আরও পড়ুন : পবিত্র স্থান মাকামে ইব্রাহীম । Holy place Makame Ibrahim । Road to Help 787

Post a Comment

Please do not enter any spam link in the comment box.

Previous Post Next Post