কে যাবেন হোয়াইট হাউসে? ।। Who will go to the White House?

কে যাবেন হোয়াইট হাউসে?
Who will go to the White House?

আগামী ৩ নভেম্বর ২০২০ অনুষ্ঠিত হবে ৫৯ তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন । এই নির্বাচনে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হলেন বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হলেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন । ডোনাল্ড ট্রাম্পের রানিং মেট হলেন মাইক পেন্স ও জো বাইডেনের রানিং মেট হলেন কমলা হ্যারিস । মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২০ এর প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পরিচিতি এবং নির্বাচন সংক্রান্ত কিছু তথ্য উপাত্ত তুলে ধরা হলো ।

Who will go to the White House?
কে যাবেন হোয়াইট হাউসে?
ডোনাল্ড ট্রাম্প

বয়স  74 বছর, জন্ম : কুইন্স নিউইয়র্ক, ১৪ জুন ১৯৪৬ সালে । ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভেনিয়া থেকে ফিন্যান্স এ স্নাতক করেন ১৯৬৪ সালে । তার বাবার আবাসন ব্যবসায় যোগদান করেন ১৯৭১ সালে । পরে তিনি কোটিপতির ঘরে নাম লেখা । ডোনাল্ড ট্রাম্প তিনটি বিয়ে করেন, প্রথম বিয়ে করেন ১৯৭৭ সালে । প্রথম সন্তানের জন্ম ১৯৭৮ সালে । নিউ ইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ার নির্মাণ করেন ১৯৮৩ সালে । ডেমোক্রেটিক দলের যোগদান করেন ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত । রিপাবলিকান পার্টিতে যোগদান করেন ১৯৮৭ সালে । ফ্রিডম পার্টিতে যোগদান করেন ১৯৯৯ সালে । পুনরায় ডেমোক্রেটিক পার্টিতে যোগদান করেন ২০০১ এ । এরপর টিভি রিয়ালিটি শোর হোস্ট হিসেবে কাজ করেন ২০০৪ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত । পুনরায় রিপাবলিকান পার্টিতে যোগদান করেন ২০১২ সালে । এরপর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ২০১৬ তে ।

মাইক পেন্স

বয়স ৬১ বছর । তিনি জন্মগ্রহণ করেন কলম্বাস, ইন্ডিয়ানা ৭ জুন ১৯৫৯ সালে । তারুণ্যে অধ্যাত্ম ও ডেমোক্রেটিক পন্থী হলেও নব্বইয়ের দশকে রিপাবলিকান পার্টিতে যোগ দেন । টিভি ও রেডিওতে উপস্থাপক হিসেবে কাজ করেন । ২০০০ সালে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন । ২০১৩ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ৫০ তম গভর্নর ছিলেন ।

জো বাইডেন

বয়স ৭৮ বছর । জন্ম : স্ক্রান্টন, পেনসিলভেনিয়া, ২০ নভেম্বর ১৯৪২ সাল । জো বাইডেন ডেলাওয়ার ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক করে ল স্কুলে যোগদান কলেন ১৯৬৫ সালে । নিলিয়া হান্টারের সাথে বিবাহ হয় ১৯৬৬ সালে এবং তাদের তিন সন্তান জন্মগ্রহণ করেন । নিউক্যাসেল কাউন্টি নির্বাচনে প্রথম জয় লাভ করেন ১৯৭০ সালে । ২৯ বছর বয়সে প্রথম সিনেটর নির্বাচিত হন ১৯৭২ সালে । দুর্ঘটনায় স্ত্রী এবং মেয়ের মৃত্যু হয় ১৯৭২ সালে । বর্তমান স্ত্রী জিল জ্যাকবসকে বিবাহ করেন ১৯৭৭ সালে । ডেমোক্রেট পার্টি থেকে প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন লাভে ব্যর্থ হন ১৯৮৮ ও ২০০৮ সালে । ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত ও পূননির্বাচিত হন যথাক্রমে ২০০৮ ও ২০১২ তে । ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মনোনীত হন ২০২০ এ ।

কমলা হ্যারিস

বয়স ৫৬বছর । জন্ম : ২০ অক্টোবর ১৯৬৪ সালে অকল্যান্ড ক্যালিফোর্নিয়া । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে তৃতীয় নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী এবং প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী ও প্রথম কোন ভারতীয় বংশোদ্ভূত, যিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুদলের থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন । বাবা জামাইকান বংশোদ্ভূত ডোনাল্ড জে হ্যারিস এবং মা ভারতীয় বংশোদ্ভূত শ্যামলা গোপালান ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট- ভাইস প্রেসিডেন্ট

মার্কিন প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান । নির্বাহী শাখার প্রধান ও ফেডারেল সরকারের প্রধান হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক আসনে সমাসীন । তিনি দেশটির সশস্ত্রবাহিনীরও প্রধান । ৪ মার্চ ১৭৮৯ মার্কিন সংবিধান কার্যকর হবার পর এ যাবত ৪৪ জন ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ।

অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট হলেন দেশটির দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি এবং উচ্চকক্ষ সিনেটের প্রধান । ১৮০৪ সালের আগ পর্যন্ত যে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইলেক্টোরাল ভোট পেতেন, তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হতেন । এ যাবত ৪৮ জন ব্যক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন চার বছর মেয়াদে পরোক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে । ১৯৫১ সালে সংবিধানের ২২ তম সংশোধনী অনুযায়ী দু'বারের বেশি কোন মার্কিনী প্রেসিডেন্ট-ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন না । নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য নূন্যতম তিনটি শর্ত প্রযোজ্য-১. মার্কিনযুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হতে হবে, ২. ৩৫ বছর বয়সি হতে হবে এবং ৩. ন্যূনতম ১৪ বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতে হবে ।

প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্ক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিতর্ক সংস্কৃতি শুরু হয় ১৯৬০ সালের নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্তে এবং সে সময় দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন রিচার্ড নিক্সন এবং জন এফ কেনেডি । তাদের মধ্যকার বিতর্কটি ছিল জাতীয় পর্যায়ে টেলিভিশনে প্রচারিত প্রথম প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্ক, আজ মার্কিন নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কৃতি হয়ে উঠেছে । কেবল তাই নয়, বলা যায় ফলাফল নির্ধারণের সবচেয়ে প্রভাবশালী একটা মাধ্যমও এটা । বিতর্কের ধরন সব সময় একই । উপস্থাপক প্রশ্ন করেন এবং প্রার্থীরা উত্তর দেন । যদিও ১৯৬৪ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্ক বন্ধ ছিল । এরপর ১৯৭৬ সাল থেকে পুনরায় শুরু হয় প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্ক যা আজ অবধি চালু রয়েছে ।

মার্কিন নির্বাচন ২০২০

আগামী ৩ নভেম্বর ২০২০ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫৯ তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হবে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের সকল আসনে ও উচ্চকক্ষ সিনেটর ৩৫ আসনে এবং ১৩ টি গভর্নর পদে নির্বাচন । ৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ প্রথম অঙ্গরাজ্য হিসেবে নর্থ ক্যারোলিনার ডাকযোগে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয় । এবং ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ আগাম ভোট শুরু হয় চারটি রাজ্যে - মিনেসোটা, ভার্জিনিয়া, সাউথ ডাকোটা এবং উইমিং । বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসাব অনুযায়ী ২০২০ সালের মার্কিন নির্বাচনে সব মিলিয়ে খরচ হবে প্রায় হাজার কোটি ডলার ।।

আরও পড়ুন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডাকযোগে ভোটে কোন বাধা নেই ।। In the United States, there is no barrier to postal voting

No comments

Please do not enter any spam link in the comment box.

Powered by Blogger.