OPEC এর ছয় দশকের যাত্রা ।। OPEC's six-decade journey

OPEC এর ছয় দশকের যাত্রা
OPEC's six-decade journey

OPEC's six-decade journey
OPEC এর ছয় দশকের যাত্রা

সময়ের আবর্তনে সুদীর্ঘ ৬টি দশক পার করলো অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের রপ্তানিকারক জোট “অরগানাইজেশন অফ দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোটিং কান্ট্রিজ” (OPEC) । ছয় দশকের যাত্রাপথে সাফল্য-ব্যর্থতার অনেক গল্প জমা হয়েছে OPEC-এর ঝুলিতে । OPEC-এর বীজ বপন হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই । জ্বালানি তেল সমৃদ্ধ ইরান ও ভেনিজুয়েলা এর সাথে সম্পৃক্ত দেশগুলোকে নিয়ে জোট গড়ার কারিগর হিসেবে কাজ করে । ১৯৬০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ইরাকের রাজধানী বাগদাদে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা করে OPEC । ১৯৬৫ সালে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় OPEC-এর সদর দপ্তর স্থাপিত হয়, যা এখনও কাজ করে যাচ্ছে । ওই সময়ে জোটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিল মাত্র পাঁচটি দেশ, তারা যথাক্রমে- ইরান, ইরাক, কুয়েত, সৌদি আরব ও ভেনিজুয়েলা ।

বর্তমানে এ জোট এর সদস্যদের সংখ্যা ১৩ টি । প্রতিষ্ঠাতা ৫ সদস্যের পাশাপাশি আফ্রিকা থেকে যুক্ত হয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, নিরক্ষীয় গিনি, গ্যাবন, লিবিয়া, নাইজেরিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাত । অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদার ৪৪ শতাংশ OPEC ভুক্ত দেশগুলো যোগান দেয় । জ্বালানি পণ্যটির মোট বৈশ্বিক মজুদের (ভূগর্ভস্থ) ৮১.৫ শতাংশ রয়েছে OPEC-এর সদস্য দেশগুলোয় । এ থেকে জ্বালানি তেলের বাজারে OPEC এর প্রভাব সম্পর্কে অনুমান করা যায় ।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে জ্বালানি তেলের বাজারে ওয়াচডগ হিসাবে কাজ করছে OPEC । বিশেষত সংকটকালে জ্বালানি পণ্যটির বাজার নিয়ন্ত্রণ ও মূল্য নির্ধারণে এ জোটের উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে বিশ্বব্যাপী । বিশেষত গত শতকে ইরানে ইসলামী বিপ্লব, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন, উপসাগরীয় যুদ্ধ, চলতি শতকের শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে সন্ত্রাসী হামলা, এর জের ধরে ইরাক, আফগানিস্থানে মার্কিন হস্তক্ষেপ ও যুদ্ধ এবং সিরিয়া লিবিয়াতে চলমান সংঘাত- এমন নানা সংকটে জ্বালানি তেলের বাজার রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেয় OPEC,যা জ্বালানি তেলের বাজার পরিস্থিতিকে বড় ধরনের ধ্বস থেকে রক্ষা করে ।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর পেট্রোডলারের প্রবাহ সুনিশ্চিত করে সৌদি আরব ও তার অনুসারী দেশগুলোর শান- শওকাতের ভিত্তি রচনা এবং সমৃদ্ধি এবং স্থিতিশীল করতে OPEC-এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে । ইরান ও ভেনিজুয়েলার স্বপ্ন প্রসূত হলেও মার্কিন কুটকৌশলের কারণে তারাই আজ ব্রাত্য, অবহেলিত ও বঞ্চিত । আর এ সুযোগে OPEC-এর অঘোষিত নেতৃত্ব গ্রহণ করেছে সৌদি আরব । ২০১০ সালেও যেখানে ইরান ও ভেনিজুয়েলার জ্বালানি তেলের উৎপাদন যথাক্রমে OPEC এর মোট উৎপাদনের ১৫ শতাংশ ও ১০ শতাংশ ছিল, দেশ দুটির উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সেখানে তাদের উৎপাদন যথাক্রমে ৭.৫ ও ২.৩ শতাংশ । অপরদিকে একই সময়ে সৌদি আরবের উৎপাদন ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৫ শতাংশে পৌঁছেছে । তাই সমালোচকদের দাবি, সৌদি আরবের একাধিপত্যের কারণে অনেক সময়ই OPEC-এর সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগে ওয়াশিংটনের ছায়া থাকে এটা আজ প্রমাণিত সত্য । অথচ ১৯৭৩ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পক্ষ নেয়ায় OPEC মার্কিনিদের ওপর তেল নিষেধাজ্ঞার যে অস্ত্র ব্যবহার করেছিল তাতে আমেরিকাকে ভালোই কাবু করা গিয়েছিল ।

একসময় ব্রিটিশ-আমেরিকান জ্বালানি তেল কোম্পানিগুলোর একচেটিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণের বিপরীতে একটি অস্ত্র হিসেবে জন্ম নিয়েছিল যে OPEC-এর সময়ের পরিক্রমায় সদস্যদের মধ্যকার পারস্পরিক দ্বন্দ্ব সংঘাত এবং সৌদি আরব ও তার অনুসারী দেশগুলোর মার্কিনিদের পায়রবি করার অপরিণামদর্শিতার জেরে সেই ভারসাম্যের নীতি থেকে সরে এসে আজ তাদেরই গোলামী করছে ।

তাই ৬০ বছর পেরিয়ে আগামী দিনগুলোয় সবদিক সামলে নিজেদের মধ্যকার ঐক্য ধরে রাখা, সদস্যদের স্বার্থরক্ষা, সদস্য সংখ্যা বাড়ানো এবং সর্বোপরি জ্বালানি তেলের বাজারে যেকোনো ধরনের ধ্বস টিকিয়ে রাখাই হবে OPEC-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ও চ্যালেঞ্জ ।।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহাসিক বাঁকবদল ।। Historical turning point in the Middle East


No comments

Please do not enter any spam link in the comment box.

Powered by Blogger.