পবিত্র স্থান মাকামে ইব্রাহীম । Holy place Makame Ibrahim । Road to Help 787

পবিত্র স্থান মাকামে ইব্রাহীম
Holy place Makame Ibrahim

Holy place Makame Ibrahim । Road to Help 787
পবিত্র স্থান মাকামে ইব্রাহীম 

“মাকামে ইব্রাহীম” হল পবিত্র কাবা শরীফ এর অনন্য এক নিদর্শন । ওমরাহ এবং হজের সময় যে সকল জায়গায় দোয়া কবুল হয় সে স্থানগুলোর মধ্যে মাকামে ইব্রাহীম অন্যতম । মাকামে ইব্রাহীম এ অবস্থিত আছে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর পদচিহ্ন সংবলিত একটি পাথর । এ পাথর হলো সেই পাথর যা কাবা ঘর নির্মাণের সময় হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর জন্য একটি চলন্ত সিঁড়ির দায়িত্ব পালন করেছিল । এক কথায় বলতে গেলে এযুগের লিফটের মত । পবিত্র কাবা নির্মাণের সময় পিতা হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর নির্মাণ কাজের প্রয়োজনে পুত্র হযরত ইসমাইল (আঃ) পাথরটি নির্বাচন করেছিলেন । মাকামে ইব্রাহিম সম্পর্কে হাদিসে এসেছে যে, হযরত আনাস (রাঃ) বলেন আমি রসূল পাক (সাঃ) কে বলতে শুনেছি, নিশ্চয়ই হাজরে আসওয়াদ এবং মাকামে ইব্রাহীম বেহেশতের দুটি ইয়াকুত পাথর । আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন এই দুটি পাথরে নুর মিশিয়ে দিয়েছিলেন । এগুলোর আলোতে পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সমস্ত ভূখন্ড আলোকিত হয়ে যেত । অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, হযরত জিব্রাইল (আঃ) মাকামে ইব্রাহীমকে (পাথর) নিয়ে এসে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) পায়ের নিচে রেখে দেন । রাসূলে পাক (সাঃ) এর সময়কাল থেকে হযরত আবু বকর (রাঃ) এর খিলাফতের সময় পর্যন্ত এই মাকামে ইব্রাহীম পাথরটি বায়তুল্লাহর সাথে একত্রিত ছিল । হযরত ওমর (রাঃ) এর সময় বন্যার স্রোতে পাথরটি ভেসে যায় । পরে হযরত ওমর (রাঃ) সেটি সংগ্রহ করে বায়তুল্লাহ থেকে একটু দূরে সরিয়ে অন্য পাথর দিয়ে স্থায়ীভাবে পরিবেষ্টিত করে দেন । সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত মাকামে ইব্রাহিম নামের ঐতিহাসিক পাথরটি কাবা চত্বরে কাচ দিয়ে ঘেরাও অবস্থায় হযরত ওমর (রাঃ) এর স্থাপিত স্থানেই সুরক্ষিত অবস্থায় আছে ।

হযরত ইব্রাহিম (আঃ) কাবা শরীফ নির্মাণ কালে এ পাথরটি উপরে এবং নিচে ওঠানামা করত । পবিত্র কাবা শরীফের গাথুনির যখন ধীরে ধীরে উপরের দিকে উঠছিল তখন পাথটিও মহান আল্লাহর কুদরতে উপরে উঠে যেত । মাকামে ইব্রাহীম মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এর একটি অনন্য নিদর্শন । কাবা শরীফ নির্মানের পাথরটি হযরত ইব্রাহিম (আঃ) কে নিয়ে ঠিক ততটুকু উপরে উঠতো যখন যতটুকু ওঠার প্রয়োজন হতো । আর এ কারণেই মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন পিতা-পুত্রের কাজের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ পাথরর্টির কাছে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার কথা উল্লেখ করেছেন । এই স্থানে দাঁড়িয়ে দোয়া করলে মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন তা কবুল করেন । মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন বলেন - এবং (সেই সময় কে স্মরণ করো) যখন কাবা গৃহকে মানবজাতির সম্মিলন ক্ষেত্র ও নিরাপত্তাস্থল করেছিলাম । (এবং বলেছিলাম) তোমরা মাকামে ইব্রাহিম কে (ইব্রাহিমের দাঁড়ানো জায়গায়) নামাজের জায়গা হিসেবে গ্রহণ করো ।

মাকামে ইব্রাহীম মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীনের ঐতিহাসিক নিদর্শনসমূহের মধ্যে অন্যতম একটি । আর তা মুসলিম উম্মাহর জন্য মহান আল্লাহ পাক এর পক্ষ থেকেঅনেক বড় একটি উপহার এবং প্রাচীনতম একটি নিদর্শন । মাকামে ইব্রাহীম এ হযরত ইব্রাহিম  (আঃ) পায়ের চিহ্ন এখনো বিরাজমান । হজ, ওমরাহ ও জিয়ারতকারীরা কাবার চত্বরে কাচ দিয়ে ঘেরা মাকামে ইব্রাহীম এর পাশে দাড়িয়ে নামাজ আদায় করেন এবং তা স্বচক্ষে দেখে আত্মতৃপ্তি লাভ করেন । পিতা ইব্রাহিম (আঃ) এবং পুত্র ইসমাইল (আঃ) এর অক্লান্ত পরিশ্রমে যখন কাবা ঘর নির্মাণ শেষ হয়, তখন মহান আল্লাহ তায়ালা হযরত ইব্রাহিম (আঃ) কে বিশ্বব্যাপী হজের আহ্বান জানানোর জন্য নির্দেশ প্রদান করেন । হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এ পাথরের উপর দাঁড়িয়েই বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন । যার ফলশ্রুতিতে দিনরাত অনবরত হজ, ওমরাহ ও কাবা শরীফ জিয়ারতে মুসলিম উম্মাহর আগমন ঘটে পবিত্র কাবা শরিফের প্রাঙ্গণে ।

সুতরাং হজ ও ওমরাহর রোকনগুলো যথাযথ আদায়ের পাশাপাশি দোয়া কবুলের স্থান মাকামে ইব্রাহিমের নামাজ পড়ার সঙ্গে সঙ্গে দোয়া করাও জরুরী । হজ ও উমরা পালনকারীরা তাওয়াফ সম্পন্ন করে মাকামে ইব্রাহীম এর কাছে দাঁড়িয়ে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করেন । মহান আল্লাহ পাক এর নির্দেশে ঐ স্থানে নামাজ আদায় করেছেন আমাদের প্রাণ প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) । মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন প্রত্যেকটি মুসলিম উম্মাহকে বায়তুল্লাহ শরীফ জিয়ারত করার তৌফিক দান করুন ।। আমিন ।।

আরও পড়ুন: আজ পবিত্র আশুরা দিবস । Today is Holy Ashura Day । Road to Help 787

Post a Comment

Please do not enter any spam link in the comment box.

Previous Post Next Post