বিখ্যাত সাহাবী গাছ । The famous Companion tree - Online Bangla News

 

বিখ্যাত সাহাবী গাছ
The famous Companion tree


The famous Companion tree - Road to Help 787
বিখ্যাত সাহাবী গাছ
এটি একটি অবিশ্বাস্য ঘটনা । কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও এটা সত্যি । আজ থেকে পনেরশো বছর আগে যে গাছটির নিচে আমাদের মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশ্রাম নিয়েছিলেন, জর্দানের মরুভূমির মধ্যে সাফাই এলাকায় সেই গাছটি এখনো বহাল তবিয়তে দাঁড়িয়ে আছে । জর্দানের বাদশা আব্দুল্লাহ্ সর্বপ্রথম এই গাছ টিকে পবিত্র স্থান হিসেবে ঘোষনা দেন । পৃথিবীতে এত পুরনো গাছ আর আছে কিনা সন্দেহ । মরুভূমির রুক্ষ পরিবেশের কারণে জন্ম থেকেই গাছটি ছিল পাতাহীন শুকনো । কিন্তু এক সময় আল্লাহর হুকুমে গাছটিতে সবুজ পাতায় ভরে ওঠে । আজও গাছটি সবুজ-শ্যামল অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে । অবিশ্বাস্য এই গাছটি জর্ডানের মরুভূমির অভ্যন্তরে সাফাই এলাকায় দাঁড়িয়ে আছে ।

৫৮২ খ্রিস্টাব্দে মানবজাতির শ্রেষ্ঠ মানুষ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বয়স তখন ১২ বছর । তিনি তার চাচা আবু তালিবের সঙ্গে ব্যবসার উদ্দেশ্যে মক্কা থেকে তৎকালীন শাম বা সিরিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন । যাত্রাপথে তারা সিরিয়ার অদূরে জর্ডানে এসে উপস্থিত হন । জর্ডানের সেই এলাকাটি ছিল শত শত মাইল বিস্তৃত উত্তপ্ত বালুময় এক মরুভূমি । হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার চাচা আবু তালিব মরুভূমি পাড়ি দেওয়ার সময় ক্লান্ত হয়ে পড়েন । তখন তারা একটু বিশ্রামের জন্য জায়গা খুঁজছিলেন । কিন্তু আশেপাশে কোন কিছু বসার জায়গা খুঁজে পাচ্ছিলেন না । চারিদিকে যতদূর চোখ যায় কোথাও কোনো অনেক গাছের দেখাও মিলল না । কিন্তু তারা ওই মুহূর্তে একটি গাছ দেখতে পেলেন । যে গাছটি উত্তপ্ত মরুভূমির মাঝে লতাপাতা জীর্ণশীর্ণ এবং প্রায় মৃত অবস্থা । উপায় না পেয়ে তারা মরুভূমির উত্তপ্ত শীর্ণ পাতাহীন সেই গাছটির তলায় বিশ্রাম নিতে বসেন । উল্লেখ থাকে যে, রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন যে পথে চলতেন তখন আল্লাহর নির্দেশে মেঘমালা তাকে ছায়া দিত এবং গাছগুলো তার দিকে হেলে পড়েও ছায়া দিত । হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাচাকে নিয়ে যখন গাছের তলায় বসে ছিলেন তখন তাদের ছায়া দিতে আল্লাহর নির্দেশে মৃতপ্রায় কাজটি সজীব হয়ে ওঠে এবং গাছপালার সবুজ পাতায় ভরে যায় । ওই গাছটি বর্তমানে সাহাবী গাছ নামে পরিচিত । এ ঘটনা দূরে দাঁড়িয়ে থেকে বুহাইরা নামক এক খ্রিস্টান পাদ্রী তা দেখেছিলেন । আবু তালিব হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নিয়ে পাদ্রীর কাছে গেলে বুহাইরা বলেন, আমি কোনদিন এ গাছের নিচে কাউকে বসতে দেখিনি । গাছটি ছিল পাতাহীন কিন্তু আজ গাছটি সবুজ পাতায় ভরপুর । এই ছেলেটির নাম কি? উত্তরে চাচা আবু তালেব বললেন, এর নাম মোহাম্মদ । পাদ্রী আবার জিজ্ঞাসা করলেন বাবার নাম কি? চাচা উত্তর দিলেন আব্দুল্লাহ । মাতার নাম কি? চাচা উত্তর দিলেন আমিনা । বালক হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখে এবং তার পরিচয় শুনে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন পাদ্রীর বঝতে বাকি রইলো না যে, এই সেই বহুপ্রতীক্ষিত শেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম । চাচা আবু তালেব কে ডেকে বললেন, তোমার সাথে বসা বালকটি সারা জগতের সরদার । তিনি বিশ্ব নেতা । তিনি এই জগতের সর্বশেষ নবী । তিনি আরো বললেন, আমি তার সম্পর্কে বাইবেলে পড়েছি এবং আমি ঘোষণা দিচ্ছি এই বালকটিই শেষ নবী ।

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও চাচা আবু তালিব যে গাছের নিচে বসে বিশ্রাম নিয়েছিলেন সেই গাছটি পনের শত বছর আগে যে অবস্থায় ছিল আজও সে অবস্থায় জর্ডানের মরুভূমিতে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে । গাছটি সবুজ লতা পাতায় ভরা এবং আজও সতেজ ও সবুজ । আশ্চর্যের বিষয় এটাই যে, গাছটি যেখানে অবস্থিত সে মরুদ্যানে কোন গাছ বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই এবং গাছটির আশেপাশে কয়েক শ কিলোমিটার এলাকার মধ্যেও আর কোন গাছ গাছালি নেই । গাছটির চারিদিকে দিগন্তজোড়া শুধুই মরুভূমি আর মরুভূমি । উত্তপ্ত বালুময় মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে গাছটি আজও মহান আল্লাহ তাআলার অসীম ক্ষমতার সাক্ষ্য দিচ্ছে ।। 


আরও পড়ুন: হিজরি নববর্ষ ও আশুরা ।। Hijri New Year and Ashura - Online Bangla News


Post a Comment

Please do not enter any spam link in the comment box.

Previous Post Next Post