বরকতময় কালো পাথর । Blessed black stone । Road to Help 787

বরকতময় কালো পাথর
Blessed black stone


Blessed black stone । Road to Help 787
বরকতময় কালো পাথর
হাজরে আসওয়াদ । আরবি “হাজর” শব্দের অর্থ পাথর আর “আসওয়াদ” শব্দের অর্থ কালো । অর্থাৎ কালো পাথর । এই হাজরে আসওয়াদ কাবা ঘরের দেওয়ালে বিশেষভাবে স্থাপন করা আছে । “হাজরে আসওয়াদ” বেহেশতের একটি মর্যাদাপূর্ণ পাথর । হজ্বযাত্রীরা হজ করার সময় এতে সরাসরি বা ইশারার মাধ্যমে চুম্বন করে থাকেন । হাদিস গ্রন্থগুলোতে হাজরে আসওয়াদ এর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অনেক বর্ণনা রয়েছে । নবী করিম (সাঃ) বর্ণনা করেছেন, “হাজরে আসওয়াদ একটি জান্নাতি পাথর । এর রং দুধের চেয়েও বেশি সাদা ছিল । পরবর্তীতে বনী আদমের পাপ রাশি এই পাথরটিকে কালো বানিয়ে দিয়েছে” । অন্য এক হাদিসে বর্ণনা করা হয়েছে, “হাজরে আসওয়াদ জান্নাতেরই একটি অংশ । হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা অত্যন্ত বরকতময়” । নবী করিম (সাঃ)বলেছেন যে, “কেয়ামতের দিন এ পাথর আবু কুবাইস পাহাড় থেকে বড় আকার ধারণ করে কেয়ামতের ময়দানে উপস্থিত হবে । এই পাথরের একটি জিহ্বা ও দুটি ঠোঁট থাকবে । আল্লাহর ঘর অর্থাৎ কাবা জিয়ারতকারীরাকে কোন নিয়তে তাকে চুম্বন করেছে সে সম্পর্কে বক্তব্য দেবে” । একবার ইবনে ওমর (রাঃ) কে হাজরে আসওয়াদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “আমি নবী করিম (সাঃ)-কে  হাজরে আসওয়াদকে স্পর্শ ও চুম্বন করতে দেখেছি” ইসলাম - পূর্ব কুরাইশদের সময় কাবা শরীফের গীরাফ যখন পুড়ে গিয়েছিল, তখন হাজরে আসওয়াদও জ্বলে গিয়েছিল । ফলে তার কালো রং বর্ন আরো বৃদ্ধি পায় । নবী করিম (সাঃ) নবুয়ত প্রাপ্তির আগে কাবা শরীফ পূর্ণ নির্মাণের পর এই হাজরে আসওয়াদ পাথর আগের স্থানে কে বসাবেন তা নিয়ে কুরাইশদের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বেঁধেছিলো । তখন নবী করিম (সাঃ) নিজের গায়ের চাদর খুলে তাতে হাজরে আসওয়াদ রেখে সব গোত্র প্রধানদেরকে চাদর ধরতে বললেন । গোত্র প্রধানরা চাদরটি ধরে কাবা চত্বর পর্যন্ত নিয়ে গেল অতঃপর নবী করিম (সাঃ) হাতে কাবার দেওয়ালে হাজরে আসওয়াদ স্থাপন করলেন এবং এরই মাধ্যমে কুরাইশদের মধ্যে হাজরে আসওয়াদ নিয়ে দ্বন্দ্ব এর সমাপ্তি ঘটে ।

আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাঃ) এর শাসনামলে হাজরে আসওয়াদ ভেঙে তিন টুকরো হয়ে গিয়েছিল । ফলে তা রুপা দিয়ে বাধা করা হয়েছিল । আর আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাঃ) সর্বপ্রথম হাজরে আসওয়াদ কে রুপা দিয়ে বাঁধানোর সৌভাগ্য অর্জন কারি । ১৭৯ হিজরীতে আব্বাসীয় খলিফা হারুন-অর-রশিদ হাজরে আসওয়াদ হিরা দিয়ে ছিদ্র করে রুপা দিয়ে ঢালাই করেন । ৩১৭ হিজরীতে কারমতিয়ারা হারাম শরীফে অতর্কিত হামলা করে এবং হাজরে আসওয়াদ নিয়ে যায় । পরে ৩৩২ হিজরীতে হাজরে আসওয়াদ ফিরিয়ে এনে চুন দিয়ে তার চারপাশ এঁটে কাবা শরিফে স্থাপন করা হয় । ৪১৩ হিজরীতে এক নাস্তিকের লৌহ দন্ড দ্বারা হাজরে আসওয়াদ এর উপর হামলা হয় । ফলে তাতে ছিদ্র হয়ে যায় । এরপর বনি শায়বার কিছু লোক তার ভগ্নাংশ গুলো একত্রিত করে কস্তুরী দ্বারা ধৌত করে তার টুকরোগুলো আবার জোড়া লাগিয়ে দেয় ।

 ১৩৩১ হিজরীতে সুলতান মোহাম্মদ রাশাদ হাজরে আসওয়াদ এর চারপাশে নতুন একটি বেষ্টনী তৈরি করে তা স্থাপন করেন । ১৩৫১ হিজরীর এপ্রিলের ১৮ তারিখে আব্দুল আজিজ বিশিষ্ট ব্যক্তিও আলেম - ওলামাসহ কাবা শরীফে উপস্থিত হন এবং হাজরে আসওয়াদ এর অবস্থান সুদৃঢ় করার জন্য তাতে মূল্যবান পাথর সংযুক্ত করেন । ১৪১৭ হিজরীতে পবিত্র কাবা ঘরের সঙ্গে বিশেষ রুপার দ্বারা হাজরে আসওয়াদকে নতুন ভাবে স্থাপন করা হয় ।

আরও পড়ুন: তায়েফে রাসুল (সাঃ) । The Prophet (SW) in Taif -  Road to Help 787

Post a Comment

Please do not enter any spam link in the comment box.

Previous Post Next Post